বুধবার, ২১ জুন, ২০১৭

Hazrat Ali (R.) and his wisdom.

হযরত আলী (র:) মহানবীর (দ:) শক্তিশালী
একজন সাহাবী, সুশাসক, জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান মানুষ
মোহাম্মধ শহীদুল্লাহ্*
হযরত আলী (র:) ছিলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-এর সন্তানতুল্য, মেয়ে জামাতা ও আপন চাচাত ভাই। হযরত মুহাম্মদ (দ:) নবুয়ত লাভ করার পর মক্কায় ইসলাম ধর্মের প্রচারণা শুরু করেন; যুবকদের মধ্যে প্রথম হযরত আলী (দ:), প্রাপ্ত বয়স্কদের মধ্যে হযরত আবু বকর (র:) এবং মহিলাদের মধ্যে উম্মুল মু‘মেনীন খদিজাতুল কুবরাহ (র:) মহানবীকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক সার্বক্ষণিক সমর্থন ও সহযোগিতা করেন। আর মহানবীর (দ:) মক্কী জীবন ও মাদানী জীবনে ২৩ বছর (১০ বছর ও ১৩ বছর) ধরে তাঁরা ছিলেন, তাঁর নিত্য সঙ্গী। মদীনা হিজরত করার পর পরই মা ফাতেমার সাথে হযরত আলী (র:)-এর শাদি মুবারক সম্পন্ন হয়। মহানবী (দ:) তাঁর সাহাবীগণকে ঘোষণা দেন যে, আল্লাহ তায়ালা কতৃক আদিষ্ট হয়ে তিনি হযরত আলী (র:)-এর সাথে প্রিয় কন্যা ফাতেমাকে (র:) বিবাহ দেন। মহানবীর (দ:) ঘনিষ্ঠ সহচর হযরত আলী (র:); বীর সেনানী, শক্তিশালী মু‘মিন মুসলমান, জ্ঞানী, সুশাসক এবং বেহেশতের সরাসরি সুসংবাদপ্রাপ্ত একজন সাহাবী। ইসলাম ধর্ম যে, আজ এত জন প্রিয়, শ্বাস্বত ধর্ম বিশ্বাস ও আল্লাহ্ তায়ালা কতৃক একমাত্র মনোনীত ধর্ম হিসেবে বিশ্বব্যাপী সুপ্রতিষ্ঠিত এর পেছনে হযরত আলী(র:)-এর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে শিয়ারা হযরত আলী (র:)-কে তাঁদের একচ্ছত্র ইমাম হিসেবে দাবি করছে, তা সঠিক নয়। তিনি সকল মুসলমানের জন্য অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মর্দে মুজাহিদ, ইসলামী শাসক ও ইসলাম ধর্ম প্রচারক। তিনি মুসলমানদের কোন অনুসারি বিশেষের জন্য নয়, সমগ্র মানব জাতির জন্য পথ প্রদর্শক। তিনি কুরআন ও সুন্নাহ‘র অন্যতম তাফসিরকারক এবং হাদিস বিশারদ ছিলেন। স্বয়ং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:), হযরত আলীর (র:) জ্ঞান প্রজ্ঞার স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি (মহানবী) বলেন; “আমি জ্ঞানের শহর, আর আলী সে জ্ঞানের দরজা স্বরূপ।”
হযরত আলীর (র:) জন্ম, শৈশব ও বেড়ে ওঠা:
আলী ইবনে আবু তালেব ৬০০ খ্রি: মক্কা নগরীতে জন্ম গ্রহণ করেন এবং ৬৬১ সালের জানুয়ারি মাসে শহীদ হন। তাঁর পিতার নাম ছিল আবু তালেব। মহনবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-এর চাচা ছিলেন তিনি (আবু তালেব)। হযরত আলী (র:) সম্পর্কসূত্রে মহানবীর চাচাত ভাই ও পরে মেয়ের জামাতা। জানা যায়, হযরত আলী (র:)-এর জন্ম লাভের সময় তাঁর পিতা বা পরিবার ছিল মক্কার পবিত্র কাবা শরীফ দেখাশোনা করার দায়িত্বপ্রাপ্ত মুতাওয়াল্লী। আর তাঁর (হযরত আলী) জন্ম গ্রহণকালে তাঁর মা কাবাগৃহে প্রার্থনা করতে যান, ঠিক সে সময় তাঁর প্রসব বেদনা ওঠলে, তিনি সেখানেই অবস্থান করেন। এসময় আলীর জন্ম হয়। আর হযরত মুহাম্মদ (দ:) সেখানে তাঁকে প্রথম দেখতে গিয়ে কোলে তুলে নিয়েছিলেন। সে আঁতুত ঘর থেকে মহানবীর সাথে আলীর হৃদয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তা আমৃত্যু অক্ষুন্ন ছিল। ১০ বছর বয়সেই হযরত আলী (র:) ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন, ৬১০ সালে। মহনবী (দ:) নবুয়ত লাভের পর অন্তত ৩ বছর গোপনে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম প্রচার করার ক্ষেত্রে চরম প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে হয়ত তা করতে সক্ষম হতেন না। তাই, আল্লাহ তায়ালার ইশারায় মহানবী (দ:) হয়ত কৌশলগত কারণে গোপনে ইসলাম প্রচারের কৌশল গ্রহণ করে একদল শক্তিশালী মুসলমান তৈরি করার ওপর অধিক গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
জ্ঞানী ও বীর পুরুষ হযরত আলী (র:):
হযরত আলী (র:) ছিলেন, মহানবীর (দ:)-এর যোগ্য শিষ্য ও সহচর। আল্লাহ তায়ালা স্বয়ং; মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-কে কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করে ও ইসলামের ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং এর প্রচার-প্রসার কৌশলসমূহ শিখিয়ে দিয়েছিলেন। আর মে‘রাজের মাধ্যমে মহানবীকে (দ:) আরশে আজীমে আমন্ত্রণ জানিয়ে আল্লাহ্ তায়ালা সরাসরি নবূয়তের স্বীকৃতি প্রদান করেন ও মর্যাদাসীন করেন। আর কখনো অহীর মাধ্যমে, কখনো সরাসরি জিব্রাইল (আ:)-কে পাঠিয়ে অথবা ইলহাম বা তাবীলের মাধ্যমে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তায়ালা এ পৃথিবীতে হযরত মুহাম্মদ (দ:)-কে সর্বশ্রেষ্ট, মানব, নবীগণের নেতা ও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। আর হযরত আলী (র:) মহানবীর (দ:) নিত্য সাহচর্য্য পেয়ে ধন্য হয়েছিলেন। তিনি (আলী) ছিলেন, অন্যতম অহী লেখক এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফের ব্যাখ্যাকারক।
খলিফা বা সুশাসক হিসেবে হযরত আলী(র:):
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-এর পবিত্র ওফাতের পর তাঁর ঘনিষ্ট বন্ধু ও সাহাবী হযরত আবু বকর (র:) ইসলামী বিশ্বের খলিফা নিযুক্ত হন। দুই বছর তিনি শাসন করেন। অতপর হযরত ওমর (র:) দশ বছর খলিফা হিসেবে শাসন করেন। তাঁর শাসনামলে পারস্য, সিরিয়া ও মিশর জয় করে পূর্ব ও পশ্চিমে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা বিস্তৃতি লাভ করে। হযরত ওমর (র:) পায়ে হেঁটে মুসলিম সেনাবাহিনী নিয়ে জেরুজালেমে প্রবেশ করেছিলেন এবং খ্রিস্টীয় নিদর্শনাবলি সংরক্ষণের নির্দেশনা জারি করেছিলেন। খলিফা ওমর (র:) প্রথম সরকারি কোষাগার এবং স্বতন্ত্র সরকারি হিসাব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ইসলামী সরকারে অনেক মৌলিক প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি রচনা করেছিলেন, তিনি। হযরত ওমর (র:)-এর পরে হযরত ওসমান (র:) খেলাফতের দায়িত্বভার গ্রহন করেন। তিনি ১২ বছর শাসন কাজ পরিচালনা করেছিলেন। তাঁর শাসনামলে ইসলামের বিস্তৃতি অব্যাহত ছিল। তিনি মহাগ্রন্থ আল-কুরআন সংকলন ও সম্পাদন করে তা বিশুদ্ধ রূপদান করে সারা পৃথিবীতে পৌঁছে দিয়েছিলেন। অত:পর খেলাফতের দায়িত্‌ব গ্রহন করেন হযরত আলী (র:)। হযরত আলী (র:) উন্নত ভাষায় সরকারি বক্তব্য বা ভাষণ দান এবং চিঠিপত্র জারিকরণের প্রথা প্রশাসন ব্যবস্থায় চালু করেছিলেন। তাঁর শাসনকালের অবসানের পর মুসলমানদের গৌরবময় রাষ্ট্র শাসন ব্যবস্থারও অবসান ঘটে। হযরত আলী (র:) ছিলেন, ইসলামের চতুর্থ খলিফা। প্রশাসক হিসেবে হযরত আলী (র:) ছিলেন অত্যন্ত বিচক্ষণ।
পারিবারিক জীবন:
২২/২৩ বছর বয়সে হযরত আলী (র:) মদিনায় হিজরত করেন। বলা যায়, তখন তিনি মহানবীর সার্বক্ষণিক দাফতরিক কাজগুলোতে সহযোগিতা করে যাচ্ছিলেন। সামরিক অভিযানগুলোতেও হযরত আলী (র:) মহানবীর অধীনস্থ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। আল্লাহ্ তায়ালা এসময় হযরত আলীর (র:) সাথে মহানবীর প্রিয় কন্যা ফাতেমাকে (র:) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে দিয়ে তাঁর সাথে নাড়ির সম্পর্ককে আরও নিবীডতর করে তুলেন। মহানবী নবী (দ:) ফাতেমাতুজ-জাহরাকে বলেন; “ আমি তোমাকে এমন একজনের সাথে পাত্রস্থ করিয়ে দিয়েছি, যে আমার পরিবার ও আমার অতি নিকটজন। হযরত আলীর (দ:) পরিবার ছিল, মহানবীর (দ:) সদা অতি আপনজন এবং তিনি তাঁদেরকে আহলে-বায়াত বা নবী পরিবারের সদস্য ঘোষণা করে মর্যাদাসীন করেছিলেন। পবিত্র কুরআন শরীফেও আহলে বায়াতদের অতি মর্যাদাশীল হওয়ার স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। মা ফাতেমার ঘরে হযরত আলী (র:)-এর ৪ জন সন্তান ছিলেন। তাঁদের দুই সন্তান ইমাম হাসান ও হোসেন (র:) ছিলেন, মহানবীর (দ:) নিজ সন্তানের মত। তিনি তাঁদেরকে অত্যন্ত ভালবাসতেন ও স্নেহ-মায়ামমতায় সিক্ত করে রাখতেন। হযরত আলী (র:) ও মা ফাতেমা (র:) দম্পতি সংসার জীবনের শুরুতে আর্থিকভাবে খুব কষ্টে-শিষ্টে দিনাতিপাত করেছিলেন। অবশ্য অন্য মুসলমানরাও সেসময়টায় তীব্র আর্থিক-অনটনে জীবন কাটাচ্ছিলেন। তিনি খেলাফতের শাসনভার গ্রহণ করে মালিক আশতারকে মিশরের গভর্নর নিযুক্ত করে একটি প্রশাসনিক ও ন্যায় বিচাল প্রতিষ্ঠা বিষয়ে নির্দেশনামূলক একট পত্র প্রেরণ করেছিলেন। এ পত্রটি এখন প্রশাসন পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বকালের একটি সেরা দলিল।
লেখক হযরত আলী (র:):
খলিফা হযরত আলী (র:) শুধু বীর সেনানী ও নেতা ছিলেন না, তিনি লেখকও ছিলেন। তিনি একাধারে ধর্মতত্ব, তাফসিরকারক, ক্যালিওগ্রাফার, সংখ্যাতাত্ত্বিক, আরবী ভাষার বৈকারণিক, অলংকার শাস্ত্রের পন্ডিত ও সাহিত্যিক, আইনবিশারদ ও ন্যায় বিচার বিষয়ক লেখক। তাঁর ভাষণ ও লেখালেখির সংকলন হিসেবে ‘নাহাজ আল-বালাগা’ গ্রন্থটি সুপরিচিত।  
হযরত আলী (র:)-এর অমর বাণীসমূহ:
হযরত আলীকে (র:) শিয়া মুসলমানরা তাঁদের নিজস্ব সম্পদ মনে করে থাকেন। তাঁরা তাঁকে ও মা ফাতেমা (র:)-কে অতি উঁচু মর্যাদায় সমাসীন করে অন্য খলিফাগণকে অস্বীকার করার প্রবণতা দেখান। কিন্তু হযরত আলী (র:) ছিলেন, সকল মুসলমানের বা বিশ্ব মানবের নিকট আদর্শ স্থানীয় ও অনুকরণীয় ব্যাক্তিত্ত্ব। তাঁর উক্তি বা বাণীসমূহ পর্যবেক্ষণ করলে, তা আমরা পুরোপুরি অনুধাবন করতে সক্ষম হব। এখানে হযরত আলীর (র:) বাছাইকৃত ৩০ টি বাণী উল্লেখ করা হলো;
১. “আপনার কষ্টকর বিষয়গুলো নিয়ে অত উদ্বিগ্ন হবেন না, এটা আপনার জন্য অন্ধকার রাতের ন্যায়, কিন্তু সেগুলোই আপনার জন্য আরও উজ্জ্বল আলোর রূপ ধারণ করে এক সময় সর্বত্র আপনাকে আলোকিত করে তুলবে।”
২. “একজন উত্তম আত্নার মানুষকে কিছুই আহত করতে পারে না। একজন দয়ালু হৃদয়ের অধিকারির অবস্থান মানুষের কাছে অনেক বেশি মূল্যবান, যা সে বুঝতে পারে না।”
৩. ‘‘মানুষের জীবনে দু‘টি দিবস বা সময়কাল থাকে; একটি আপনার পক্ষের জন্য আর অন্য দিবসটি আপনার বিপক্ষে। সুতরাং যে দিবসটিতে আপনার ভাল সময় কাটে তা নিয়ে গৌরব করবেন না বা অতি উৎসহি হবেন না। আর যখন দিবসটি আপনার খারাপ যাবে তখন ধৈর্য্য ধারণ করবেন, কারণ দু‘টিই আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য আসে।”
৪. “একজন মহান ব্যাক্তির সর্বোত্তম কাজ হলো, ক্ষমা করে দেয়া ও ভুলে যাওয়া।”
৫. “আপনি যখন দুনিয়ার কষ্টের ভারে আপনার হাঁটু পর্যন্ত অবনত হয়ে পড়বেন, তখন আপনার প্রার্থনা করার উপযুক্ত সময় এটি।”
৬. “একজন নারী প্রবল আবেগী সুন্দর বৈশিষ্ট্যে সৃষ্ট, যাকে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন, সমাজকে শিক্ষিত করে তোলার জন্য দায়িত্বভার গ্রহণের নিমিত্তে এবং তাকে (সমাজকে) পরিপূর্ণতা দেয়ার জন্য। আল্লাহ তায়ালা নারী সৃষ্টি করেছেন তার (আল্লাহর) আপন সৌন্দর্য্যের প্রতীক হিসেবে। আর তা তিনি করেছেন তার (নারীর) সঙ্গী ও পরিবারের জন্য সুখ-শান্তি বয়ে আনার লক্ষ্যে।”
৭. “বিনয়ের সাথে কারও কোন আবদার-অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা, তাকে অপেক্ষামান রাখার চেয়ে অনেক উত্তম।”
৮. “কারও ভাই তাঁর জন্য স্বর্ণের মত মূল্যবান। আর তার একজন বন্ধূ হীরক খন্ডের ন্যায়। স্বর্ণ ভেঙ্গে গেলে বা ক্ষয়ে গেলে, তাকে গলিয়ে পুনলায় ঠিক করা যায়। আর যদি হীরক খন্ড ফেটে বা ভেঙ্গে যায়, তা কখনও পূর্বরূপ ধারণ করে না।”
৯. “যে বিশ্বকে বিশ্বাস করে, সে বিশ্ব তাকে বিশ্বাস ঘাতকতা করে।”
১০. “ধৈর্য্য বিজয়কে সুনিশ্চিত করে।”
১১. “সৌজন্য বোধে টাকা খরচ হয় না, কিন্তু তার জন্য কাউকে কাউকে অনেক মাসুল দিতে হয়।”
১২. “কি অদ্ভুত ব্যাপার যে, মানুষ কোন কিছুকে ভয় পেয়ে পালিয়ে যায়, কিন্তু তিনি যখন আল্লাহ্ তায়ালাকে যতই ভয় পান, তিনি ততই তাঁর (আল্লাহ) তাঁর সান্নিধ্যপ্রাপ্ত হন।”
১৩. “কারও জন্য পরনিন্দা এমন এক অপচেষ্টা বা জিনিষ যে, যে ব্যাক্তি তার জন্য ভাল কিছু করতে পারে না, সেই তাতে লিপ্ত হয়।”
১৪. “নি:সন্দেহে নিশ্চুপ থাকা, কখনো কখনো কারও কারও জন্য সবচেয়ে ভাল ফল বয়ে আনে।”
১৫. “একজন জ্ঞানী লোক সব সময় কম কথা বলেন, পক্ষান্তরে কোন নির্বোধ ব্যাক্তি সদা বলতে থাকেন।”
১৬. “অতি কথন হতে সাবধান থাকুন, কারণ তাতে ভুল হয় অনেক বেশি এবং তা অতি মাত্রায় বিরক্তি ডেকে আনে।”
১৭. “আপনি যা অপছন্দ করেন, অন্যের জন্যও তাই করুন।”
১৮. “তৃষা না পেলে, পানির মূল্য কখনো অনুধাবন করা যায় না, মৃত্যু বিহীন জীবনের কোন মূল্যই নেই। আর বিশ্বাস ছাড়া বন্ধুত্ব হয় না।”
১৯. “আপনার জিহ্বাকে সংযত রাখুন, যেভাবে আপনি স্বার্ণালংকার ও রৌপ্যের যত্ন-আত্তি নেন।”
২০. “দেহের পরিচর্যায় দরকার খাবার, আর আত্নার পরিচর্যা হলো অন্যকে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা।”
২১. “যার শত্রু থাকে, তার কোন শান্তি বা বিশ্রাম নেই। আর যার মধ্যে মানুষের প্রতি ভালবাসা নেই, তার আছে দুর্ব্যবহার।”
২২. “আপনাকে অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে, কারণ এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবাদত।”
২৩. “ভিক্ষা করা, কিছুই না থাকার চেয়ে ঘৃণ্য।”
২৪. “আমাদের অনুসারিরা মৌমাছির মত পাখিদের মাঝে বসবাস করে থাকে। কোন পক্ষিকূলই ক্ষুদ্র ও দুর্বল প্রাণি হওয়ায়, মৌমাছিকে পাত্তা দেয় না। তারা এমনটা কখনো করত না, যদি তারা অনুধাবন করতে পারত যে, তারা মধূর মত মূল্যবান জিনিষ ধারণ করে।”
২৫. “আপনাদেরকে আল্লাহ তায়ালাকে মানার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আপনাদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে ভাল কাজ করার জন্য।”
২৬. “আপনাদের শুধু আল্লাহ তায়ালার ওপর ভরসা করা উচিত। াার আপনার পাপ বা অপরাধ ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করা উচিত নয়।”
২৭. “আপনি অসুস্থ বা পীড়িত হয়ে পড়লে, ভীত হবেন না। আর যতটা পারেন আশাবাদী হোন।”
২৮. “তিনিই সবচেয়ে জ্ঞানী এবং উত্তম মানুষ, যিনি মানুষকে আল্লাহ তায়ালার রহমত হতে হতাশ ও বিশ্বাস না হারানোর উপদেশ দেন। আর  মানুষকে বলেন যে, তাকে তার কর্মের পরিণতি ও শাস্তি হতে মুক্তি পাওয়ার ব্যাপারে অতি নিশ্চিত ও আত্নবিশ্বাসী না হতে।”
২৯. “সততা আপনাকে শুভ কোন কিছু বা মঙ্গলময়তার দিকে নিয়ে যাবে। আর কল্যাণমূলক কাজ আপনাকে স্বর্গে নিয়ে যাবে।”
৩০. “আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত যা বলে ফেলবেন তাতে সুদক্ষ প্রমাণিত হবেন, যদি না তা প্রকাশ করেন, একবার তা বলে ফেললে, এটার জন্য আপনি দায়ি হয়ে যাবেন। আপনার জিহ্বাকে সংযত রাখুন, যেভাবে আনার স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সাকে সংরক্ষণ করেন। আপনার একটি কটূ শব্দ চয়ন আপনার জন্য অপমান এবং অসম্মান বয়ে আনতে পারে।”
উপরে, আমরা ইসলামে মহান চতৃর্থ খলিফা হযরত আলী (র:)-এর ব্যাক্তিত্ত্ব, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, ব্যাক্তি জীবন, পারিবারিক জীবন, জ্ঞান-প্রজ্ঞা, শাসক হিসেবে তাঁর গুণাবলি, সৃজনশীলতা এবং সর্বোপরি একজন শ্রেষ্ঠ মু‘মিন মুসলমান হিসেবে পরীক্ষিত বৈশিস্টাবলী, মহানবীর (দ:) হৃদয়ে স্থান পাওয়া; প্রভৃতি দিক নিয়ে অলোচনা করেছি। তাঁকে ঘিরে বর্তমানে অনেক মুসলিম-অমুসলিমের মাঝে কিছুটা বিতর্কও রয়েছে। কিন্তু তিনি যে মহান এক ব্যাক্তিত্ত্ব এবং শ্রেষ্ঠতম জ্ঞানী-গুণি ও মহানবীর (দ:) স্নেহধন্য একজন বীর পুরুষ ছিলেন, তাতে কোন সন্দেহ নেই। আসুন আমরা সবাই; পবিত্র এ রমজান মাসে হযরত আলী (র:)-এর মত মহামানব হওয়ার চেষ্টা করি। তাঁকে সর্বত্র অনুসরণ ও অনুকরণ করে চলার পন্থা অবলম্বন করি।

*সহকারি উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মহেশখালী, কক্সবাজার।

Islam and Modernism

ইসলাম ও আধুনিকতা ভাবনা
ইসলাম ধর্ম কী আধুনিক ও উত্তর আধুনিকতার এ যুগে অগ্রহনযোগ্য হয়ে পড়েছে? ইসলাম ও আধুনিকতা কী সাংঘর্ষিক? ইসলাম কী আধুনিকতাকে গ্রহণ করে না? আসলে এসব প্রশ্ন বা বিতর্ককে অন্ত:সারশূন্য বলা যায়। আধুনিকতায় বিশ্বাসীরা মনে করেb, যা ইচ্ছা তা করাই আধুনিকতা। কিন্তু ইসলামে আধুনিকতা বলতে তা বুঝায় না। কতগুলো মৌলিক বিষয়ে ইসলাম কোনভাবেই আপোষ করে না। তৌহিদ, নবী-রসূলগণের ওপর বিশ্বাস, কুরআন-সুন্নাহ্ ও শরিয়তের হুকুম-আহকাম মেনে চলা; প্রভৃতি ইসলাম ধর্মের মূল বিষয়। আর ইসলাম আধুনিকতাকে স্বাগত জানায়। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন; ‘ আল্লাহু জমিলুন, ইয়হুব্বুল জমিল।” অর্থাৎ আল্লাহ্ তায়ালা স্বয়ং সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য্যকে ভালবাসেন।” যে সব আধুনিকতা উশৃংখলতা, অশ্লিলতা, বেহায়াপনা, অশোভন কিছুর সৃষ্টি করে তা ইসলাম গ্রহন করে না। যাহোক, এ নিবন্ধে ইসলাম ও আধুনিকতার ধারণা বিশ্লেষণপুর্বক এ দু‘টির মধ্যকার মিল-অমিল এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
ইসলামকী?
ইসলাম এক আল্লাহ্-তে বিশ্বাসের ধর্ম। এ ধর্মের সকল শিক্ষা ও বিশ্বাস পবিত্র কুরআন শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। ইসলাম আরবী শব্দের মূল শব্দ ‘সলেম’। এর অর্থ হলো, শান্তি। আর ইসলাম শব্দের অর্থ হলো; বিনয়ের সাথে (আল্লাহ্ তায়ালার নিকট) মাথা নত করা, আত্নসমর্পন করা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের পরিচয় দিয়েছেন; পবিত্র কুরআনের সূরা এখলাসসহ বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে। সূরা এখলাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিচয় দিয়ে বলেন; বল, ‘তিনিই আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাকেও জন্ম দেন নি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেহই নেই।” আরেক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা বলেন; “তিনি আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, দন্ডদাতা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না।” মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-এর পরিচয় দিয়ে বলেন; “মুহাম্মদ (দ:) আল্লাহ্‌ রসূল। তিনি অবিশ্বাসীদের বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শীসাঢালা প্রাচীরের মত শক্তিশালী। সঙ্গী-সাথীদের প্রতি তিনি খুবই দয়া পরবশ। তোমরা তাঁকে রুকু করতে দেখবে, সেজদা করতে দেখতে পাবে। তিনি আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য কামনা করেন।” আর মুসলমানরা বিশ্বাস করেন; হযরত মুহাম্মদ (দ:) আল্লাহ্ তায়ালার সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না। “তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ।” তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে, হযরত আদম, হযরত ইব্রাহীম, হযরত নূহ, হযরত মূসা, হযরত ঈসা (আ:) প্রমুখ আল্লাহ তায়ালার নবী ও রাসূল। পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ বা হাদীছ, এজমা, কিয়াস ও ইজতেহাদ প্রভৃতি ইসলামী বিধি-বিধানের মূল উৎস। আর ইসলামে মূল ভিত্তি পাঁচটি। যথা-কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত। আর বর্তমান বিশ্বে ২৩ হতে ২৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান।
আধুনিকতা কী?
আধুনিকতা বলতে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কল্যাণে পৃথিবীর সকলসুযোগ-সুবিধা অবাধ উপভোগ করে জীবন-যাপন করা যায়, এমন এক পরিবেশ বা অবস্থাকে বুঝায়। আঠার শতকের শিল্প বিল্পবের পর এমন পরিবেশ মানুষের জন্য সৃষ্টিহয়। তখন হতে আধুনিকতার সূচনা। শিল্প-সাহিত্যের চর্চাকারিগণ বর্তমান সময়কে উত্তর আধুনিককাল হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। আর এখন অনেকে বর্তমান কালকে উচ্চতর তথ্য-প্রযুক্তির যুগরূপে উল্লেখ করে থাকেন। আর আধুনিকতার সংজ্ঞা দিতে সমাজ বিজ্ঞানীগণ নিন্মরুপে ব্যখ্যা দিয়েছেন; ‘‘আধুনিকতা একটি দার্শনিক আন্দোলন যাতে সাংস্কৃতিক প্রবণতাসমূহ এবংপ রিবর্তনগুলো ব্যাপকভাবে এবং সূদূরপ্রসারী রূপান্তর ঘটিয়ে দিয়েছে। বিশেষত: পাশ্চাত্য সমাজে উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ হতে বিংশশতাব্দীতে এ রূপান্তর ঘটেছে। আধুনিক শিল্পায়িত সমাজ ও দ্রুততর সময়ে নগরের বিকাশ আধুনিকতার মূল উপাদান। এসবের পরিণতিতে ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনে। আর আধুনিকতা আলোকিত সমাজের ধারণাকে পরিত্যাগ করে। এমন কি অনেক আধুনিকতাবাদীদের মতে এখানে ধর্মের স্থান নেই। আধুনিকতাবাদ বলতে, সাধারণভাবে সনাতনভাবে চলমান শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, দর্শন, সামাজিক সংগঠন, দৈনন্দিন জীবন-যাপন, এবং এমন কি বিজ্ঞানকেও অস্বীকার করেন য়া অর্থব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা ও রানৈতিক পরিবেশকেই অর্থাৎ পরিপূর্ণ একটি শিল্পায়িত বিশ্বকেই বুঝায়। আধুনিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আত্নসচেতনতা।
ইসলামে আধুনিকতা:
ইসলামে প্রথম নতুনত্ব আনয়নের চেষ্টা করেন তৃতীয় হিজরীতে মুতাজিলা সম্প্রদায়। তাঁরা কুরআন এবংসুন্নাহকে অক্ষুন্ন রেখে কুরআনের ব্যাখাকে তাদের ভাষায় ‘তাউয়ীল’এবং সুন্নাহ্র ব্যাখ্যাকে‘ আকল’নামে উল্লেখ করেন। কিন্তু এটি সার্বজনীন ধারণা হিসেবে ইসলামে গ্রহনযোগ্যতা পায় নি। আধুনিকতার সূচনা আসলে ঘটেছে, মধ্যযুগের ইউরোপে। স্পেনে যখন বিজ্ঞান চর্চা শুরু হলে, ধর্মশালাগুলোতে যা শিক্ষা দেয়া হয় তা সত্য নয়। এতে ধীরে ধীরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ডেকে আনে। ধর্মে আধুনিকতা রূপান্তর হলো পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ি পরিবর্তন বয়ে আনা। আর তার কোন নির্দিষ্টরূপ নেই।  ইহুদী ও খ্রিষ্টানধর্মাবলম্বী আধুনিকতাবাদীরা ব্যাখ্যা দিলেন কেন তখন ও ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান রয়েছে। ধর্মীয় যেসব বিষয় মানুষ মেনে তা অক্ষুন্ন রেখে তারা ব্যখ্যা উৃপস্থাপন করল, বাইবেলে স্বর্গীয় ও মানবিক বিষয়ের মিশ্ররূপ খুঁজে পাওয়া যায়। এ সময় মুসলামানরা ইউরোপে বাইবেলের অনুসারিদের দিকে পরিবর্তনগুলো লক্ষ করছিল। তখন মুসলমানদের সামনে তিনটি বিষয় এসে উপস্থিত হয়। আর তা হলো; হয় পাশ্চাত্যকে গ্রহন করো, নয়তো বর্জন করো অথবা ইসলামকে সংস্কার করে পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বরণ করে নাও। যারা আধুনিকতাকে গ্রহণ করল; তারা তুরস্ক ও মিশরকে মডেল হিসেবে নিয়েছিল। তারা তুরস্ককে অনুকরণ করে কারণ এটি ছিল বৃটিশ শাসনাধীন। আর মিশরকে মডেল মেনে ছিল তারা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে যেটা ছিল ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র বিন্দু। এ আধুনিকতার আন্দোলনকারিরা ইসলামকে বিচার করত ‘আকল’ পদ্ধতি অনুসরণে। এক্ষেত্রে তাঁদের কার্যক্রমে নিন্মোক্ত ক্রুটিগুলো পরিলক্ষিত হতো;
১. যারা তা অনুধাবন করতে পারত না, এমন বিষয় তারা প্রয়োগ করত।
২. বুদ্ধি-বিবেচনা অনুযায়ি যা মানার তা মান, অন্যগুলো পরিহার করো।
৩. তারা কুরআন ও সুন্নাহকে মানলেও, তা অনুসরণের ক্ষেত্রে বুদ্ধি-বিবেচনা করেই তা করত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামে আধুনিকতা:
এখানকার আধুনিকতাবাদীরা বলে যে, পাশ্চাত্য ও বিশ্ব বদলে গেছে। তাই ইসলামকে সভ্য করে তুলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিকতার প্রসার  ঘটার কারণগুলো নিন্মরূপ;
১. এ ধারণাসমূহ প্রত্যাখ্যান করার মত উপযুক্ত জ্ঞানী-গুণী মানুষ সেখানে নেই।
২.এখানে যারা আসে তারা আমেরিকান সমাজের অংশ হয়ে যায় এবং তাদের পরিচয় মুসলিম পরিচয় বহন করে না। নৌমুসলিমরাও তাদের পুরনো জীবন ধারা পাল্টায় না।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ সাহিত্য, পন্ডিতজন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে।
আবার মুসলমানদের মাঝে কুরআন-এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, বক্তব্য এবং অন্যান্য আলোচ্য বিষয় নিয়ে তেমন দ্বি-মত নেই। কিন্তু সুন্নাহ, শরিয়াহ, ফিক্হা, ইজমা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে অনুসৃত বিষয়গুলো নিয়ে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়। কিছু কিছু আধুনিকতাবাদী মুসলমানরা মতামত দেন যে, আধুনিকতায় বিশ্বাসীরা মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করে থাকে। আর তারা জেনে না জেনে তাদের মতামতের প্রসার ঘটান।
ইসলাম ও আধুনিকতা একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা:
ইসলাম ও আধুনিকতার মধ্যকার সম্পর্ক; বিভিন্ন পর্যায়ে ও বিভিন্নরূপে ইসলাম ও পাশ্চাত্যের মধ্যকার আন্ত:ক্রিয়ার মধ্যে শতাব্দী প্রাচীনকাল ধরে নিহীত। াাধুনিকতা এবং এর সাথে সম্পর্কিত ধারণা ও বিশ্বাস, সভ্যতার সৃষ্টির আদিকাল এবং বিগত তিনশত বছরব্যাপী আধুনিকতার বিকাশকাল হতে ইসলামের সাথে মতদ্বৈততা প্রকাশ করে আসছে। ইসলাম নিজেই আধুনিকতার রূপ নিয়েছে। কারণ অষ্টাদশ ও উনবিংশ শতাব্দীতে খ্রিস্টীয় প্রকৃতির হওয়ায় এটাকে বর্জন করেছিল।তখন থেকেই আধুনিকতার প্রশ্নে ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে আসছে।পশ্চিমা পন্ডিতদের পক্ষ থেকেই এ চ্যালেঞ্জ আসে।সেসব পন্ডিতজনের অধিকাংশ যুক্তি প্রদর্শন করেন যে, ইসলাম পুরোপুরি আধুনিকতাকে ধারণ করতে পারে নি।তাঁদের মতে আধুনিকতার কতগুলো প্রবণতা রয়েছে, যেগুলো ইসলাম গ্রহণ করে না। যেমন- আধুনিক প্রতিষ্ঠানসমূহ ও অর্থনীতি, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সর্বোপরি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গণতন্ত্র। এ প্রেক্ষিতে ইসলাম ও মুসলমানদেরকে আধুনিকতার সাথে অমঙ্গিতিপূর্ণ বলে পরিগণিত করা হয়। পাশ্চাত্যে ব্যাপকভাবে মনে করা হয় যে, আধুনিকায়নের মাধ্যমেই ইসলামকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যেতে পারে, যা আসলে জটিল ও বহুমুখি প্রবণতাকে ধারণ করে।তাই, আধুনিকতাবাদী পন্ডিতগণ মনে করেন যে, ইসলাম এখনো তার আবহমানকালের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, যা আধুনিক জীবন-যাপন পদ্ধতি ও যুক্তিকে খন্ডন করা যাবে এ কথা বলে যে, ইসলাম ও মুসলিমরা ইসলাম সম্মত নয়, এমন সব বিশ্বাস ও প্রায়োগিক দিকসমূহকে মেনে নিয়ে অবশ্যই আধুনিকতাকে গ্রহণ করবে না। যাহোক, পাশ্চাত্যের আধুনিকতাবাদীদের সাথে অনেক কিছু অসঙ্গিতিপূর্ণ হওয়া সত্বেও, আধুনিকতার সাথে ইসলামের মানানসই সম্পর্ক গড়ে ওঠা াসম্ভব নয়।সেসাথে ইসলাম আধুনিকতার মৌলিক দিকগুলোকে কতটা গ্রহণ করতে পারবে তা বিশ্লেষণ করে দেখা প্রয়োজন। ইতিহাসের দিকে ফিরে থাকালে দেখা যায় যে, ওসমানিয়া শাসনামলে ইসলাম ইউরোপীয় সভ্যতার সংস্পর্শে আসার সাথে সাথে সামরিক বাহিনীতে আধুনিক প্রযুক্তি, ইউরোপীয় আইন-কানুন ও শিল্প কলাকে তা গ্রহণ করে নিয়েছিল। অপরদিকে ইউরোপও ইসলামী ভাব ধারাকে ধারণ করে নিয়েছিল।সেকালে ইসলামী সমাজগুলোতে ও ঔপনিবেশিক শক্তিশালী অবস্থানের প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি বিষয়ে অনেক প্রতিবন্ধকতা ও বাধা থাকা সত্বেও, পাশ্চাত্যের প্রভাব-প্রতিপত্তির বিরূদ্ধে ইসলামী মৌলবাদের সরাসরি উত্থান ঘটে নি, বরং ইসলামের আধুনিকতা ও ইসলামের সমন্বয়বাদী রূপের দৃষ্টান্ত হলো, তুরস্ক। এ দেশটিতে আধুনিকায়ন শুরু হয়েছিল। আধুনিকায়নকে গ্রহণ করে ইসলামী মূল্যবোধ ‍ও অনুশীলণকে সচেতন বা অবচেতনে তারা ধারণ করে নেয়। তুরস্কের পর মুসলিম দেশগুলো যেমন-ইরান, মিশর, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন ও অন্য অনেক দেশ, বিশেষত: মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন সাধন করে আধুনিকায়নকে গ্রহণ করে নেয়। তথাপি, অনেক মুসলিম দেশ; যেমন- সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান, ব্রুনাই এখনো বাদশাহ, শেখ, সুলতান ও এক নায়করা শাসন ভার রিচালনা করে যাচ্ছেন।মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ দেশ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কারণে আধুনিকতাবাদীরা, আধুনিকতার সাথে ব্যাপকভাবে নিবীড সম্পর্ক গড়ে তুললেও, ইসলামকে গণতান্তিক বলে গ্রহন করে না।কিছু মুসলিম দেশে মূল্রবোধের ঘাটতি বটে, এটা ইসলামী শিক্ষা বা অসামঞ্জস্যতার সাথে কারণে নয়।এসবের মূলে নিহীত রয়েছে; ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দূরত্ব, ইসলাম ধর্মগত বিশ্বাসের জন্য নয়। যদিও আধুনিক গণতন্ত্রের মতবাদের জন্ম পাশ্চাত্যে, সেখানেও ১৮শ শতাব্দী পর্যন্ত খ্রিস্টান চার্চাগুলো আধুনিকতা ও গণতন্ত্রের বিরোধীতা করায় সাদরে বরণ করা হয় নি, শুধু উনবিংশ শতকেই এটা গ্রহনযোগ্য হয়ে ওঠে।পক্ষান্তরে রাজতন্ত্র রাজতন্ত্র ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছিল, সেকলে আলেমদের দ্বারা, যারা এ ব্যবস্থাকে মেনে নেন, ইসলামী শিক্ষার আলোকে নয়, বিশৃংখলা-নৈরাজ্য হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।এ সুযোগে মুসলিম দেশগুলোতে একটি কর্তৃত্বপরায়ণ ক্ষমতা কাঠামো গড়ে ওঠে, যেখানে ইসলামের অনুসারিরা মনোয়নের মাধ্যমে বাদশাহী বা রাজতন্ত্র ঠিকিয়ে রেখেছে।সামা্রজ্যবাদী স্বার্থগোষ্ঠীর সেবা করে তাদের রাজকীয় শাসন পদ্ধতিকে আরও সুসংহত করে নিয়েছে। মুসলিম রাজতন্তের সমর্থকদের মধ্যে রয়েছে; ইউরোপ, আমেরিকা, যারা সব সময় তাদের (রাজতন্ত্রের) দুর্নীতি, ও কর্তৃত্ববাদী শাসকদের সমর্থন দিয়ে আসছে, বিশেষত: মুসলিম দেশগুলোকে। আধুনিকতার প্রতি ইসলামের আরও কয়েকটি প্রেক্ষিতকে বিবেচনায় নিয়ে গভীরভাবে বিশ্লেষন করা যেতে পারে।যেমন- আধুনিক ব্যাংকিং ও মুদ্রানীতির প্রচলন, ইসলামী সংস্থা বা সংগঠন গড়ে তোলা, প্রভৃতি।
উপসংহারে বলা যায় যে, ইসলাম ও আধুনিকতার মধ্যকার তুলনামূলক অনুসন্ধান করা হলে, উভয়ের মূল মূল বিষয়ে খুব একটা পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে আধুনিকতা, অত্যাধুনিকতা, উশৃংখলতা, নীতি গর্হিত কিছু আচার-আচরণ, রীতি-নীতি ও সংস্কৃতির কতিপয় চর্চাগত বিষয় আছে; যেগুলো ইসলামী শিক্ষা, অনুশীলণ, ও বিশ্বাসের সম্পর্ণ পরিপন্থী। অতএব ছোট-খাট পার্থক্যগুলোকে গুরুত্ব না দিয়ে ন্যায়বিচার, শু‘রা, মানবাধিকার, নারী অধিকার, প্রতিষ্টান, অর্থ ব্যবস্থা, আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, বিচার বিভাগসহ গণতন্ত্র ও আধুনিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিধায় পাশ্চাত্য ও ইসলামের সহাবস্থান ও পরস্পরের কল্যাণমূলক বিশ্ব ব্যবস্থা সম্ভব।





Digital Content at the Primary school Classes and Digital Bangladesh

বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে শ্রেণি পাঠদান কাযর্ক্রম
মাল্টি-মিডিয়া ব্যবহারের উপকারিতা-অপকারিতা:
 একজন উপজেলা শিক্ষা অফিসারের ভাবনা
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করে ২০০৮ সালে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম জনপ্রিয় ভিশন বা রূপকল্প ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অনেকেই তখন এ ঘোষণাকে শস্তা শ্লোগান বলে অভিহিত করার প্রয়াস চালান। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ ২০১৭ সালে এসে এটি একটি বাস্তবতা। এটি স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছার কল্পলোক নয়, আর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালি, ভারতের বাঙ্গালুর বা দক্ষিণ কোরিয়ার গিগা আইল্যান্ডের মত বেশকটি আইটি পার্ক পেতে যাচ্ছি আমরা বাংলাদেশে। ডিজিটাল আইল্যান্ড ইমজার মত মহেশখালী ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পটি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অন্যতম সাফল্য সোপান। আগামীকাল ২৭ এপ্রিল/২০১৭ বৃহস্পতিবার এ প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এর শুভ উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আমরা কক্সবাজারবাসী পেতে যাচ্ছি, একটি গিগা আইল্যান্ড ইমজা, যার অপর নাম মহেশখালী ডিজিটাল আইল্যান্ড। যাহোক, আমি এখানে প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে তথ্য-প্রযুক্তি বা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি শিখন-শেখানো কার্যক্রম নিয়ে আলোকপাত করব। বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক কলা-কৌশল প্রয়োগ চলছে বিগত ৬/৭ বছর ধরে। বিশেষত: প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রত্যকটিতে মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছর ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে হয়ত ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতে লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন পৌঁছে যাবে।আর প্রত্যেক বিদ্যালয়ে অন্তত: ৪ জন করে শিক্ষক/শিক্ষিকা আইসিটি প্রশিক্ষণ পেয়ে যাবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগনকে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে শিক্ষক বাতায়ন কোলা হয়েছে। শিক্ষকগণ এ ওয়েভসাইটে হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করে রেখেছেন। দেশ-বিদেশে যে কোন প্রান্তে এ ভিডিওগুলো সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যায়।এভাবে চলতে থাকলে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষাঙ্গনে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদানের ক্ষেতে একটি মহা বিল্পব সাধিত হবে। আর শিক্ষার মানে আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া লেগে সোনার বাংলায় সোনার মানুষ দলে দলে তৈরি হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্ম হয়ে যাবে বিশ্ব মানের উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত মানব সম্পদ। সেদিনের অপেক্ষায় আমরা সবাই অপেক্ষমান।
মহেশখালীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটি-এর প্রয়োগ: বর্তমানে মহেশখালী উপজেলায় ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে আরও ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলো নির্মাণাধীন। আগামী বছরের শুরুতে এগুলোতে শ্রেণি পাঠদান কাজ শুরু হবে। মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্রালয়ের সংখ্যা হবে ৭১ টি। আরও ১০ টি গ্রামে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে।এখানকার ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে। কর্মরত ৪০০ জন শিক্ষক শিক্ষকার মধ্যে ১২০ জন মত শিক্ষক/শিক্ষিকা আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়না বলে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হলে এবং ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকর্পের আওতায় উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হলে মহেশখালী প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চালু করা যাবে।পাল্টে যাবে প্রাথমিক শিক্ষা চিত্র। সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত হবে, এত কোন সন্দেহ নেই।
মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও সনাতন পদ্ধতিতে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার পার্থক্যসমূহ:
সনাতন পদ্ধতিতে প্রাঠদান
ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান
-ব্লাক বোর্ড বা হোয়াইট বোর্ড এবং চক-ডাস্টার ব্যবহার করে পাঠদান চলে।
-লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়।
-বই দেখে দেখে পাঠদান করা হয়।
-ভিডিও চিত্র বা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়।
-সাধারণ উপকরণ ব্যবহার হয়।
-ভিডিও ভিত্তিক বাস্তব উপকরণ প্রদর্শন করা হয়্।
-বেশিরভাগ শিশুর শিখন ফল বা যোগ্যতা অর্জন হয় না।
-প্রত্যেক শিশুর শিখন অনেকটা নিশ্চিত হয়।
-শিক্ষক কেন্দ্রিক শিখন-শেখানো চলে।
-শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পাঠদান চলে।
-সনাতনী পড়াশোনা বা শিখন-শেখানার চর্চা করা হয়ে থাকে।
-আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে শ্রেণি শিখন-শেখানো চলে।
-যোগ্যতা ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা পুরোপুরি সম্ভবপর হয় না।
-তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার কাজটি অনেকটা সহজতর করে তোলে।
-সংশ্লিষ্ট পাঠের বিষয়বস্তু ও শিখন ফল শিক্ষার্থীরা ভালভাবে আয়ত্ত্ব করতে পারে না।
-মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান করা হলে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন ভালভাবে হয়।
-শিক্ষার্থীরা তেমন আনন্দ পায় না।
-প্রত্যেক শিক্ষার্থী তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে আনন্দ পায় এবং ভালভাবে শেখার আগ্রহ পায়।
-শ্রেণিকক্ষে আনন্দমুখর ও স্থায়ি শিখন ফল অর্জিত হয় না তেমন।
-মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের ফলে শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো আনন্দমুখর হয় ও স্থায়ি শিখন ফল অর্জিত হয়।
-শিশুদেরকে বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলা অসম্ভবপর।
-তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে শিশুরা বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
-
-

সর্বেপরি বলা যায়, সনাতন পদ্দতির শিখন-শেখানো এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে পাঠদানের মাঝে ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বিশ্বব্যাপি শিখন-শেখানা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্নতন সাধিত হয়ে গেছে। পাশের দেশ ভারত-শ্রীলংকায় অনেক আগেই শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার শুর করা হয়। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে সাফল্য পেয়েছ। আর সারাবিশ্বে ফিনল্যান্ড প্রাথমিক শিক্ষায় শীর্ষে অবস্থান করছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, একদিন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাও দেখিয়ে দেবে আমরাও পারি। আর মহেশখালী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী ৪/৫ বছরে দেশে এক নম্বর অবস্থানে চলে যাবে, এটাই কাম্য।
*মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্; উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মহেশখালী, কক্সবাজার।




‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’: শেখ হাসিনার যুগান্তকারি পদক্ষেপ
প্রাথমিক স্তরে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও  শ্রেণি পাঠদান
কার্যক্রম: একটি পর্যবেক্ষণ
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা এখন আর সেই যুগে নেই। বিশ্ব দরবারে এ স্তরের শিখন-শেখানো কার্যক্রমের মানে উন্নত প্রযুক্রির ছোঁয়া একে আগামী ৫/১০ বছরে অনেক উপরে নিয়ে যাবে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার এ যুগান্তকারি পদক্ষেপের সূচনা ঘটালেন। আর এর নেপথ্যে রয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বনামধন্য তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সন্তান ও বাংলাদেশের ভবিষ্যত পথরেখা এবং উন্নত জাতি গড়ে তোলার স্বপ্নদ্রষ্টা ও বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজিব ওয়াজেদ জয়। আরও আছেন তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিন্ত্রী জনাব জুনায়েদ আহমদ পলক। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় ‘ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী’ কার্যক্রমের সূচনা ঘটতে যাচ্ছে শীঘ্রই। আগামী ২৭/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডি কন্ফারেন্সের মাধ্যমে এ প্রকল্পের শুভযাত্রা ঘটাবেন। উল্লেখ্য যে, মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন, সোনাদিয়া ও ধলঘাটায় অর্থনৈতিক জোন স্থাপন, মৈনাক পাহাড়ে এলএনজি স্টেশন তৈরিসহ হাজার কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষ অনেক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যক্রম এরিমধ্যে মহেশখালীর মাটিতে উন্নয়নের মহা সোপান সৃষ্টি করে দিয়েছে। আইওএম(আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা) এবং কে.টি কর্পোরেশন(কোরিয়ান টেলিকম) যৌথভাবে ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু পরিবারের আরেক সুযোগ্য কন্যা শেখ রেহেনার বউ মা মিস পেপ্পি সিদ্দীক। যাহোক, দক্ষিণ কোরীয় প্রত্যন্ত দ্বীপে সেদেশের সরকার কতৃক গড়ে তোলা আইটি পার্ক গিগা আইল্যান্ডের আদলে উচ্চ গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট কানেকটিভিটি ব্যবহার করে মহেশখালী উপজেলায় সর্বস্তরের জনগণের দোর গড়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ সকল ধরণের সেবা পৌঁছে দেয়ার এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান বাংলাদেশ সরকার। প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে এর কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে চলবে। ক্রমান্বয়ে পুরো মহেশখালী দ্বীপকে প্রকল্পভুক্ত করা হবে। বিগত ১৫/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ ও গত ২০/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মান্যবর সচিব জনাব সুবীর কুমার চৌধুরী এবং অতিরিক্ত জনাব মো: হারুনুর রশিদ মহেশখালী সফর করে উদ্বোধনী কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করেন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসন এবং মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন আসন্ন ২৭ এপ্রিলে/১৭ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আন্তরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ডিজিটাল আইল্যান্ড কর্মসূচি এবং প্রাথমিক শিক্ষা স্তর: মহেশখালী উপজেলার একটি (০১টি) পৌরসভা এবং আটটি (০৮টি) ইউনিয়নের মধ্যে পৌরসভা এবং ছোট ও বড় মহেশখালী ইউনিয়নকে ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পভুক্ত করা হয়েছ। এর অংশ হিসেবে প্রাথমিক স্তরে দশটি (১০টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ০২টি সরকার নিয়ন্ত্রিত সিনিয়র মাদ্রাসাকে উচ্চ ক্ষমতার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দূর শিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্প্রচার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো; ১. মহেশখালী মডেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২. বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩. আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪. সিপাহীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫. পশ্চিম ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬. ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭. গোরকঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮. মুন্সিরডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯. নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০. মধূয়ারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাদ্রসা দুটি হলো; পুটিবিলা তৈয়বিয়া ফিাজিল মাদ্রাসা ও আহমদিয়া তৈয়বিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। ‘জাগো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ সংস্থার সহায়তায় ০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ; যথাক্রমে আদিনাথ, বার্মিজ ও ফকিরাঘোনায় ইতোমধ্যে ‘দূর শিক্ষণ’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা শুরু করা হয়েছে। মহেশখালী উপজেলায় বর্তমানে ৭১ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে।
এরমধ্যে ৬৮টিতে পুরোদমে শ্রেণি পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম চলছে। আর বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে প্রতিষ্ঠিত তিনটি (০৩টি)সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণাধীন ও এখনো পাঠদান কার্যক্রম চালু হয় নি। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এমন ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২টিতে ইতোমধ্যে লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রীন (মাল্টিমিডিয়া) প্রদান করা হয়েছে। আর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, প্রায় ২০০ জন মত শিক্ষক/শিক্ষিকা। মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম বর্তমানে প্রত্যাশা অনুযায়ি পরিচানা করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ইন্টারনেট-এর গতি খুবই দুর্বল।ডিজিটাল আইল্যান্ড প্রকল্পের আওতায় পুরো মহেশখালীতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি শুরু হলে প্রাথমিক শিক্ষাস্তরে ও মহেশখালী উপজেলার অন্যান্য সেবা খাতগুলোর সেবা জনগনের ঘরে ঘরে পৌঁছানো এখ সময়ের ব্যাপার মাত্র। এ ক্ষেত্রে মহেশখালী উপজেলার রাজনীতিবিদ, নাগরিক সমাজ, শিক্ষক, সাংবাদিক, পেশাজীবীসহ আপামর জনসাধারণের মেধা-মনন ও রুচিবোধকে জাগ্রত করা একান্ত প্রয়োজন। এখানকার অনেকেই আজও বুঝতে পারছেন না যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও সরকার মহেশখালবিাসীকে কত উঁচু জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন। ২৭ এপ্রিলের/১৭ পরে হয়ত যারা এখনো এসব বুঝতে পারছেন না মহেশখালীতে কী ঘটতে যাচ্ছে, তারা স্ব-চক্ষে দেখে উপলব্ধি করতে পারবেন তা, কিছুটা হলেও। ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যবর্গকে, যাঁরা ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছেন। কক্সবাজার এলাকার সন্তান হিসেবে আমার একান্ত কামনা, আমরাই হবো শিক্ষা-দীক্ষা, উন্নত প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন ও ব্যবহারে দেশ সেরা। আল্লাহ্ তায়ালার নিকট অকুন্ঠ চিত্তে দোয়া করি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য কক্সবাজারবাসি তথা বাঙ্গালী জাতির মঙ্গলের জন্য এহেন একটি মহত্তম কাজের সূচনা ঘটনানোর উদ্যোগ গ্রহণ করায়। পরিশেষে স্মরণ করি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
*মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্; উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মহেশখালী, কক্সবাজার।



Digital Island Moheshkhali

আইল্যান্ড ইমজা-মহেশখালী ও ডিজিটাল বালাদেশ:
একটি তুলনামূলক পরিচিতি ও পর্যালোচনা

দক্ষিণ কোরীয়ার অনেকগুলো দ্বীপ-এর মধ্যে ‘ইমজা’ একটি দ্বীপ। এ ইমজা দ্বীপ এখন বিশ্বব্যাপি গিগা আইল্যান্ড নামে সুপরিচিত। এটি সে দেশের শুধু একটি দ্বীপ মাত্র নয়, তাদের জন্য এটি মার্কিন সিলিকন ভ্যালি বা ভারতের বাঙ্গালুর-এর মত হাইটেক আইটি পার্ক। আমরা জানি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আজকের উচ্চতর তথ্য-প্রযুক্তি বিকাশের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সিলিকন ভ্যালি। এ উপত্যাকাকে কেন্দ্র করেই তারা বিশ্ব হাইটেক জগতের দখল নিয়েছে। বিল গেটসের  মাইক্রোসফ্ট বা স্টিভ জবসের এ্যাপল কোম্পানী দুনিয়া দখল করে নিয়েছে এ সিলিকন ভ্যালিতে উচ্চতর প্রযুক্তির চর্চা ও বিকাশের মধ্য দিয়ে। আর উন্নত ব্রান্ডের কম্পিউটার তৈরিকারকরা, যেমন- ডেল, এইচপি-এর মালিকরাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। এসার, সামসাংসহ অন্য ব্রান্ডের কম্পিউটার নির্মাণকারি কোম্পানীগুলোর অবস্থান মার্কিনীদের সাথে প্রতিযোগিতায় এখনও বেশ পেছিয়ে আছে। ভারত সরকার বাঙ্গালুরে হাইটেক প্রকল্প স্থাপন করে বিশ্ব দরবারে তথ্য-প্রযুক্তি জগতে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে গেছে। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে চীন-জাপানের পাশাপাশি ইমজা দ্বীপে গিগা আইল্যান্ড প্রতিষ্ঠা করে দক্ষিণ কোরিয়া উচ্চতর তথ্য-প্রযুক্তি জগতে মাথা তুলছে বা উঁকি দিয়ে দিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারও ১২টি আইটি পার্ক স্থাপনসহ হাইটেক পার্ক গড়ে তোলার জন্য মহতি সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। সেদিন বেশি দূরে আমরাও জ্ঞান-বিজ্ঞান এবং তথ্য-প্রযুক্তি জগতের শিখরে পৌঁছে যাব।

 

ইমজা গিগা ডিজিটাল আইল্যান্ড: কোরিয়া উপদ্বীপকে ঘিরে আছে অনেগুলো দ্বীপ। এদেশে ইমজা একটি দ্বীপ। এখানেই গিগা আইল্যান্ড প্রকল্পের সূচনা ঘটানো হয়। কে.টি বা কোরিয়া টেলিকম পুরো ইমজা দ্বীপবাসীকে ডিজিটালাইজড করে দিয়েছে। নিকটস্থ শহর হতে এ দ্বীপে পৌঁছতে ৪ ঘন্টা সময় লাগে। শহর হতে এর যাতায়তের দূরত্ব ঘুচিয়ে দিয়েছে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ। পুরো দ্বীপবাসীর জীবন-মান পাল্টে গেছে, হয়ে গেছে তা সহজতর এবং বৈশ্বিক মানের। প্রায় ৩সহস্র জন সংখার বসতি ইমজা দ্বীপে। তরুণ জনগোষ্ঠীর অনেকেই নিকটস্থ শহরে কাজের সন্ধানে চলে গিয়েছিল। অবশিষ্ট ছিল বৃদ্ধ ও শিশুরা। সে দ্বীপের ৭০ ভাগ জনগণ জড়িত ছিল কৃষি ভিত্তিক পেশায়। কিন্তু এ দ্বীপবাসী এখন উন্নত জীপন যাপনের সকল সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে ঘরে বসেই। এর পেছনে কাজ করেছে কে.টি-এর গিগা আইল্যান্ড প্রকল্প। এ দ্বীপে কাজ করেন, এক বাংলাদেশী প্রযুক্তিবিদ মি. দেব ব্রত দাশ। তিনিই বাংলাদেশে কোরিয়ার ইমজা গিগা আইল্যান্ডের খোঁজ দেন। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমদ পলক এমপি মহোদয় এ দ্বীপের কর্মকান্ড সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক ধারণা নেন। আর এর নেপথ্যে আছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তিবিদ সুযোগ্যপুত্র সজিব ওয়াজেদ জয় মহোদয়। যাহোক, বাংলাদেশ সরকার, আন্তর্জাতিক অবিবাসী সংস্থা (আইওএম) এবং কোরিয়া টেলিকম সংস্থা (কে.টি)এর সাথে এক সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

মহেশখালী ডিজিটাল আইল্যান্ড: মহেশখালী বাংলাদেশের অপার সম্ভাবনার আধার একটি দ্বীপ। এর জনবসতির সংখ্যা ৪ লাখের মত। এখানে রয়েছে, ১টি পৌরসভা এবং ৮টি ইউনিয়ন পরিষদ। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান অওয়ামী লীগ সরকার  কক্সবাজার তথা সারা দেশের মানুষের সকল প্রকার উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ দ্বীপটিকে বেছে নিয়েছে। যতদূর জানি, মহেশখালীবাসীর প্রতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরও বিশেষ দুর্বলতা ‍ছিল। বিশেষত সেনাদিয়ার প্রতি। আর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনা মহেশখালীর জনগণের আপদে-বিপদে বার বার ছুটে এসেছিলেন। বিশেষত: তিনি ১৯৯১ সালের ২৯ এপিল প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিজড়ে ক্ষত-বিক্ষত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। আর কান্নায় ভেঙ্গে পড়েছিলেন তিনি, মাতারবাড়ী-ধলঘাটার স্বজন হারানো মানুষের কষ্ট দেখে, হাজার হাজার মানুষের ভেসে যাওয়া বা করুণ মৃত্যুবরণ করার বর্ণনা শুনে। সে মহেশখালীর মানুষের পাশে এসে দাঁড়ালেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। যে মহেশখালীর কথা শুনলে এর বাইরের মানুষজন এক সময় ভয়ে আঁতকে উঠত, সে জনপদ আজ পরিণত হতে চলেছে সার্বিক বিবেচনায় দেশের অন্যতম একটি উন্নত শিল্প ও বন্দর সংবলিত দ্বীপ শহরে। আগামী ৫/১০ বছরের মধ্যে মহেশখালী একটি মিনি সিঙ্গাপুরে রূপান্তরিত হবে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। মাতারবাড়ীতে কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ধলাঘাটা ও সোনাদিয়ায় অর্থনৈতিক জোন এবং এল.এন.জি স্টেশন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়ে গেলে, উন্নত মহেশখালীর চেহারা দৃশ্যমান হবে। তখন মানুষ দেখতে পাবে, এটি স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। এরিমধ্যে বিশাল ও মহৎ একটি কাজের যাত্রা হয়ে গেল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতৃক বৃহস্পতিবারে (২৭/০৪/২০১৭খ্রি: তারিখে) ডিজিটাল গিগা আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণার মাধ্যমে। প্রাথমিকভাবে মহেশখালী পৌরসভা, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন ও ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে এর সুফল পাওয়া যাবে। উপজেলা পরিষদের সকল অফিসে এবং স্বাস্থ্য খাত, শিক্ষা বিভাগ, কৃষি খাত, মৎস্য বিভাগ, সমাজ সেবা বিভাগ, শেখ রাসেল কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন এবং রাখাইন পাড়ায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উচ্চ গতির ইন্টাননেট সংযোগ প্রদান করে এ প্রকল্পের যাত্রা ঘটল। ক্রমান্বয়ে পুরো মহেশখালী উপজেলার প্রায় ৪ লক্ষ জনগোষ্ঠী এর আওতায় চলে আসবে। আর এ প্রকল্পের সহায়তায় প্রত্যেক ঘরে ঘরে মানুষ বিশ্ব জনগোষ্ঠীর অংশ হয়ে যাবে। এ দ্বীপের শিক্ষার্থীরা হয়ে যাবে বিশ্বমানের শিক্ষার্থী। তারা সারা বিশ্বের যে কোন সেরা সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নত কন্টেন্ট হাতের কাছেই পেয়ে যাবে, অতি সহজে। মহেশখালীতে এ সকল উন্নয়নের মহাযজ্ঞের পেছনে রয়েছেন, মহেশখালী-কুতুবদিয়ার মাটি ও মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্নেহধন্য মানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আশেক উল্লাহ রফিক। মহেশখালীবাসীর উচিত; এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে বিরূপ সমালোচনায় বিচলিত না হয়ে, এর নেপথ্য কারিগরদের জন্য মন খোলে দোয়া করা।

ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ত্বাধীন বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ‘ভিশন ২০২১’ ঘোষণা করে ২০০৮ সালের শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ম্যান্ডেড নিয়ে সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম জনপ্রিয় ভিশন বা রূপকল্প ছিল ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা। অনেকেই তখন এ ঘোষণাকে শস্তা শ্লোগান বলে অভিহিত করার প্রয়াস চালান। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ ২০১৭ সালে এসে, একটি বাস্তবতা। এটি স্বপ্নচূড়ায় পৌঁছার কল্পলোক নয়, আর। সরকারের সকল খাতে তথ্য-প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগে সকল কাজে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ও হচ্ছে, দ্রুততম সময়ে। সকল প্রকার সেবা পৌঁছে যাচ্ছে, সর্বস্তরের মানুষের দোর গোড়ায়। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে তথ্য-প্রযুক্তি বা মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি শিখন-শেখানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অনেক আগেই। বাংলাদেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রমে তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক কলা-কৌশল প্রয়োগ চলছে, বিগত ৬/৭ বছর ধরে। বিশেষত: প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে সারাদেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক আইসিটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ও নিজস্ব প্রচেষ্টায় শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রত্যকটিতে মাল্টিমিডিয়া বিতরণ করা হচ্ছে। চলতি অর্থ বছর ২০১৬-১৭ এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে হয়ত ৬৪ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবকটিতে লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন পৌঁছে যাবে। আর প্রত্যেক বিদ্যালয়ে অন্তত: ৪ জন করে শিক্ষক/শিক্ষিকা আই.সি.টি প্রশিক্ষণ পেয়ে যাবেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকগণকে উৎসাহিত করতে সরকারিভাবে শিক্ষক বাতায়ন খোলা হয়েছে। শিক্ষকগণ এ ওয়েভসাইটে হাজার হাজার ভিডিও আপলোড করে রেখেছেন। দেশ-বিদেশের যে কোন প্রান্তে এ ভিডিওগুলো সংগ্রহ ও ব্যবহার করা যায়। এভাবে চলতে থাকলে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে শিক্ষাঙ্গনে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদানের ক্ষেত্রে একটি মহা বিল্পব সাধিত হবে। আর শিক্ষার মানে আন্তর্জাতিকতার ছোঁয়া লেগে সোনার বাংলায় সোনার মানুষ দলে দলে তৈরি হয়ে যাবে। নতুন প্রজন্ম হয়ে যাবে, বিশ্ব মানের উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত মানব সম্পদ। সে দিনের অপেক্ষায় আমরা সবাই অপেক্ষমান।
ডিজিটাল আইল্যান্ড কর্মসূচি এবং বাংলাদেশর প্রাথমিক শিক্ষা স্তর: প্রাথমিক শিক্ষা স্তরে দশটি (১০টি) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ০২টি সরকার নিয়ন্ত্রিত সিনিয়র মাদ্রাসাকে উচ্চ ক্ষমতার তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে দূর শিক্ষণ প্রোগ্রাম সম্প্রচার করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকল্পের আওতায় । শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো; ১. মহেশখালী মডেলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২. বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩. আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪. সিপাহীর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫. পশ্চিম ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬. ফকিরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭. গোরকঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৮. মুন্সির ডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৯. নতুনবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১০. মধূয়ারডেইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। আর মাদ্রাসা দুটি হলো; পুটিবিলা তৈয়বিয়া ফিাজিল মাদ্রাসা ও আহমদিয়া তৈয়বিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। ‘জাগো ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’ সংস্থার সহায়তায় ০৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ; যথাক্রমে আদিনাথ, বার্মিজ ও ফকিরাঘোনায় ইতোমধ্যে ‘দূর শিক্ষণ’ কার্যক্রম পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালনা শুরু করা হয়েছে।

মহেশখালীর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটি-এর প্রয়োগ: বর্তমানে মহেশখালী উপজেলায় ৬৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে। বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে আরও ৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলা হচ্ছে। এগুলো নির্মাণাধীন। আগামী বছরের শুরুতে এগুলোতে শ্রেণি পাঠদান কাজ শুরু হবে। মোট সরকারি প্রাথমিক বিদ্রালয়ের সংখ্যা হবে ৭১ টি। আরও ১০ টি গ্রামে নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে।এখানকার ২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রদান করা হয়েছে। কর্মরত ৪০০ জন শিক্ষক শিক্ষকার মধ্যে ১২০ জন মত শিক্ষক/শিক্ষিকা আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং ইন্টারনেট সংযোগ পাওয়া যায়না বলে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হলে এবং ডিজিটাল আইল্যান্ড মহেশখালী প্রকর্পের আওতায় উচ্চগতিসম্পন্ন ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপিত হলে মহেশখালী প্রত্যেক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম চালু করা যাবে।পাল্টে যাবে প্রাথমিক শিক্ষা চিত্র। সকল শিশুর মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।
মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার ও সনাতন পদ্ধতিতে শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনার পার্থক্যসমূহ:
সনাতন পদ্ধতিতে প্রাঠদান
ডিজিটাল পদ্ধতিতে পাঠদান
-ব্লাক বোর্ড বা হোয়াইট বোর্ড এবং চক-ডাস্টার ব্যবহার করে পাঠদান চলে।
-লেপটপ, প্রজেক্টর ও স্ক্রিন ব্যবহার করে পাঠদান করা হয়।
-বই দেখে দেখে পাঠদান করা হয়।
-ভিডিও চিত্র বা পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টশনের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়।
-সাধারণ উপকরণ ব্যবহার হয়।
-ভিডিও ভিত্তিক বাস্তব উপকরণ প্রদর্শন করা হয়্।
-বেশিরভাগ শিশুর শিখন ফল বা যোগ্যতা অর্জন হয় না।
-প্রত্যেক শিশুর শিখন অনেকটা নিশ্চিত হয়।
-শিক্ষক কেন্দ্রিক শিখন-শেখানো চলে।
-শিক্ষার্থী কেন্দ্রিক পাঠদান চলে।
-সনাতনী পড়াশোনা বা শিখন-শেখানার চর্চা করা হয়ে থাকে।
-আধুনিক ধ্যান-ধারণার আলোকে শ্রেণি শিখন-শেখানো চলে।
-যোগ্যতা ভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা পুরোপুরি সম্ভবপর হয় না।
-তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার কাজটি অনেকটা সহজতর করে তোলে।
-সংশ্লিষ্ট পাঠের বিষয়বস্তু ও শিখন ফল শিক্ষার্থীরা ভালভাবে আয়ত্ত্ব করতে পারে না।
-মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেণি পাঠদান করা হলে, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শিখন ভালভাবে হয়।
-শিক্ষার্থীরা তেমন আনন্দ পায় না।
-প্রত্যেক শিক্ষার্থী তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করা হলে আনন্দ পায় এবং ভালভাবে শেখার আগ্রহ পায়।
-শ্রেণিকক্ষে আনন্দমুখর ও স্থায়ি শিখন ফল অর্জিত হয় না তেমন।
-মাল্টিমিডিয়া ব্যবহারের ফলে শ্রেণিকক্ষে শিখন-শেখানো আনন্দমুখর হয় ও স্থায়ি শিখন ফল অর্জিত হয়।
-শিশুদেরকে বিজ্ঞান মনস্ক করে গড়ে তোলা অসম্ভবপর।
-তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে শিশুরা বিজ্ঞান মনস্ক হয়ে ওঠার সুযোগ পায়।
-
-

সর্বেপরি বলা যায়, সনাতন পদ্ধতির শিখন-শেখানো এবং মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে পাঠদানের মাঝে ব্যাপক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। বিশ্বব্যাপি শিখন-শেখানা এবং মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্নতন সাধিত হয়ে গেছে। পাশের দেশ ভারত-শ্রীলংকায় অনেক আগেই শিক্ষা ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার শুর করা হয়। এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষিণ কোরিয়া সবচেয়ে সাফল্য পেয়েছ। আর সারাবিশ্বে ফিনল্যান্ড প্রাথমিক শিক্ষায় শীর্ষে অবস্থান করছে। সেদিন বেশি দূরে নয়, একদিন বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষাও দেখিয়ে দেবে আমরাও পারি। আর মহেশখালী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা আগামী ৪/৫ বছরে দেশে এক নম্বর অবস্থানে চলে যাবে, এটাই কাম্য।

*মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্; উপজেলা শিক্ষা অফিসার, মহেশখালী, কক্সবাজার।
ইসলাম ও আধুনিকতা ভাবনা
ইসলাম ধর্ম কী আধুনিক ও উত্তর আধুনিকতার এ যুগে অগ্রহনযোগ্য হয়ে পড়েছে? ইসলাম ও আধুনিকতা কী সাংঘর্ষিক? ইসলাম কী আধুনিকতাকে গ্রহণ করেনা? আসলে এসব প্রশ্ন বা বিতর্ককে অন্ত:সারশূন্য বলা যায়। আধুনিকতায় বিশ্বাসীরা মনে করে, যা ইচ্ছা তা করাই আধুনিকতা। কিন্তু ইসলামে আধুনিকতা বলতে তা বুঝায় না। কতগুলো মৌলিক বিষয়ে ইসলাম কোনভাবেই আপোষ করে না। তৌহিদ, নবী-রসূলগণের ওপর বিশ্বাস, কুরআন-সুন্নাহ্ ও শরিয়তের হুকুম-আহকাম মেনে চলা; প্রভৃতি ইসলাম ধর্মের মূল বিষয়। আর ইসলাম আধুনিকতাকে স্বাগত জানায়। আল্লাহ্ তায়ালা বলেন; ‘ আল্লাহু জমিলুন, ইয়হুব্বুল জমিল।” অর্থাৎ আল্লাহ্তায়ালা স্বয়ং সুন্দর এবং তিনি সৌন্দর্য্যকে ভালবাসেন।” যেসব আধুনিকতা উশৃংখলতা, অশ্লিলতা, বেহায়পনা, অশোভন কিছুর সৃষ্টি করে তা ইসলাম গ্রহন করে না। যাহোক, এ নিবন্ধে ইসলাম ও আধুনিকতার ধারণা বিশ্লেষণপুর্বক এ দু‘টির মধ্যকার মিল-অমিল এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা হবে।
ইসলামকী?
ইসলাম এক আল্লাহ্-তে বিশ্বাসের ধর্ম। এ ধর্মের সকল শিক্ষা ও বিশ্বাস পবিত্র কুরআন শরীফে লিপিবদ্ধ আছে। ইসলাম আরবী শব্দের মূল শব্দ সলেম। এর অর্থ হলো, শান্তি। আর ইসলাম শব্দের অর্থ হলো; বিনয়ের সাথে (আল্লাহ্ তায়ালার নিকট) মাথা নত করা, আত্নসমর্পন করা। আল্লাহ তায়ালা তাঁর নিজের পরিচয় দিয়েছেন পবিত্র কুরআনের সূরা এখলাসসহ বিভিন্ন স্থানে ও আয়াতে। সূরা এখলাসে আল্লাহ তায়ালা তাঁর পরিচয় দিয়ে বলেন; বল, ‘তিনিই আল্লাহ্, এক-অদ্বিতীয়। আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন, সকলেই তাঁর মুখাপেক্ষী। তিনি কাকেও জন্ম দেননি এবং তাঁকেও জন্ম দেয়া হয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেহই নেই।” আরেক জায়গায় আল্লাহ তায়ালা বলেন; “তিনি আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, দন্ডদাতা। আল্লাহ নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের কিছুই তাঁর নিকট গোপন থাকে না।” মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ:)-এর পরিচয় দিয়ে বলেন; “মুহাম্মদ (দ:) আল্লাহ্র রসূল। তিনি অবিশ্বাসীদের বা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শীসাঢালা প্রাচীরের মত শক্তিশালী। সঙ্গী-সাথীদের প্রতি খুবই দয়া পরবশ। তোমরা তাঁকে রুকু করতে দেখবে, সেজদা করতে দেখতে পাবে। তিনি আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য কামনা করেন।” আর মুসলমানরা বিশ্বাস করেন; হযরত মুহাম্মদ (দ:) আল্লাহ্ তায়ালার সর্বশেষ নবী। তাঁর পরে আর কোন নবী আসবেন না। “তিনি সারা বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ।” তাঁরা আরও বিশ্বাস করেন যে, হযরত আদম, হযরত ইব্রাহীম, হযরত নূহ, হযরত মূসা, হযরত ঈসা (আ:) প্রমুখ আল্লাহ তায়ালার নবী ও রাসূল। পবিত্র কুরআন, সুন্নাহ বা হাদীছ, এজমা, কিয়াস ও ইজতেহাদ প্রভৃতি ইসলামী বিধি-বিধানের মূল উৎস। আর ইসলামে মূল ভিত্তি পাঁচটি। যথা-কলেমা, নামাজ, রোজা, হজ্ব ও যাকাত। আর বর্তমান বিশ্বে ২৩ হতে ২৫ শতাংশ মানুষ মুসলমান।
আধুনিকতা কী?
আধুনিকতা বলতে, জ্ঞান-বিজ্ঞানের কল্যাণে পৃথিবীর সকলসুযোগ-সুবিধা অবাধ উপভোগ করে জীবন-যাপন করা যায়, এমন এক পরিবেশ বা অবস্থাকে বুঝায়। আঠার শতকের শিল্প বিল্পবের পর এমন পরিবেশ মানুষের জন্য সৃষ্টিহয়। তখন হতে আধুনিকতার সূচনা। শিল্প-সাহিত্যের চর্চাকারিগণ বর্তমান সময়কে উত্তর আধুনিককাল হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। আর এখন অনেকে বর্তমান কালকে উচ্চতর তথ্য-প্রযুক্তির যুগরূপে উল্লেখ করে থাকেন। আর আধুনিকতার সংজ্ঞা দিতে সমাজ বিজ্ঞানীগণ নিন্মরুপে ব্যখ্যা দিয়েছেন; ‘‘আধুনিকতা একটি দার্শনিক আন্দোলন যাতে সাংস্কৃতিক প্রবণতাসমূহ এবংপ রিবর্তনগুলো ব্যাপকভাবে এবং সূদূরপ্রসারী রূপান্তর ঘটিয়ে দিয়েছে। বিশেষত: পাশ্চাত্য সমাজে উনবিংশ শতাব্দীর শেষার্ধ হতে বিংশশতাব্দীতে এ রূপান্তর ঘটেছে। আধুনিক শিল্পায়িত সমাজ ও দ্রুততর সময়ে নগরের বিকাশ আধুনিকতার মূল উপাদান। এসবের পরিণতিতে ভয়াবহ প্রথম বিশ্বযুদ্ধ ডেকে আনে। আর আধুনিকতা আলোকিত সমাজের ধারণাকে পরিত্যাগ করে। এমন কি অনেক আধুনিকতাবাদীদের মতে এখানে ধর্মের স্থান নেই। আধুনিকতাবাদ বলতে, সাধারণভাবে সনাতনভাবে চলমান শিল্প, স্থাপত্য, সাহিত্য, ধর্মীয় বিশ্বাস, দর্শন, সামাজিক সংগঠন, দৈনন্দিন জীবন-যাপন, এবং এমন কি বিজ্ঞানকেও অস্বীকার করেন য়া অর্থব্যবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা ও রানৈতিক পরিবেশকেই অর্থাৎ পরিপূর্ণ একটি শিল্পায়িত বিশ্বকেই বুঝায়। আধুনিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আত্নসচেতনতা।
ইসলামে আধুনিকতা:
ইসলামে প্রথম নতুনত্ব আনয়নের চেষ্টা করেন তৃতীয় হিজরীতে মুতাজিলা সম্প্রদায়। তাঁরা কুরআন এবংসুন্নাহকে অক্ষুন্ন রেখে কুরআনের ব্যাখাকে তাদের ভাষায় ‘তাউয়ীল’এবং সুন্নাহ্র ব্যাখ্যাকে‘ আকল’নামে উল্লেখ করেন। কিন্তু এটি সার্বজনীন ধারণা হিসেবে ইসলামে গ্রহনযোগ্যতা পায় নি। আধুনিকতার সূচনা আসলে ঘটেছে, মধ্যযুগের ইউরোপে। স্পেনে যখন বিজ্ঞান চর্চা শুরু হলে, ধর্মশালাগুলোতে যা শিক্ষা দেয়া হয় তা সত্য নয়। এতে ধীরে ধীরে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ডেকে আনে। ধর্মে আধুনিকতা রূপান্তর হলো পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ি পরিবর্তন বয়ে আনা। আর তার কোন নির্দিষ্টরূপ নেই।  ইহুদী ও খ্রিষ্টানধর্মাবলম্বী আধুনিকতাবাদীরা ব্যাখ্যা দিলেন কেন তখন ও ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা বিদ্যমান রয়েছে। ধর্মীয় যেসব বিষয় মানুষ মেনে তা অক্ষুন্ন রেখে তারা ব্যখ্যা উৃপস্থাপন করল, বাইবেলে স্বর্গীয় ও মানবিক বিষয়ের মিশ্ররূপ খুঁজে পাওয়া যায়। এ সময় মুসলামানরা ইউরোপে বাইবেলের অনুসারিদের দিকে পরিবর্তনগুলো লক্ষ করছিল। তখন মুসলমানদের সামনে তিনটি বিষয় এসে উপস্থিত হয়। আর তা হলো; হয় পাশ্চাত্যকে গ্রহন করো, নয়তো বর্জন করো অথবা ইসলামকে সংস্কার করে পাশ্চাত্য সভ্যতাকে বরণ করে নাও। যারা আধুনিকতাকে গ্রহণ করল; তারা তুরস্ক ও মিশরকে মডেল হিসেবে নিয়েছিল। তারা তুরস্ককে অনুকরণ করে কারণ এটি ছিল বৃটিশ শাসনাধীন। আর মিশরকে মডেল মেনে ছিল তারা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে যেটা ছিল ইসলামী জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার কেন্দ্র বিন্দু। এ আধুনিকতার আন্দোলনকারিরা ইসলামকে বিচার করত ‘আকল’ পদ্ধতি অনুসরণে। এক্ষেত্রে তাঁদের কার্যক্রমে নিন্মোক্ত ক্রুটিগুলো পরিলক্ষিত হতো;
১. যারা তা অনুধাবন করতে পারত না, এমন বিষয় তারা প্রয়োগ করত।
২. বুদ্ধি-বিবেচনা অনুযায়ি যা মানার তা মান, অন্যগুলো পরিহার করো।
৩. তারা কুরআন ও সুন্নাহকে মানলেও, তা অনুসরণের ক্ষেত্রে বুদ্ধি-বিবেচনা করেই তা করত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামে আধুনিকতা:
এখানকার আধুনিকতাবাদীরা বলে যে, পাশ্চাত্য ও বিশ্ব বদলে গেছে। তাই ইসলামকে সভ্য করে তুলতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আধুনিকতার প্রসার  ঘটার কারণগুলো নিন্মরূপ;
১. এ ধারণাসমূহ প্রত্যাখ্যান করার মত উপযুক্ত জ্ঞানী-গুণী মানুষ সেখানে নেই।
২.এখানে যারা আসে তারা আমেরিকান সমাজের অংশ হয়ে যায় এবং তাদের পরিচয় মুসলিম পরিচয় বহন করে না। নৌমুসলিমরাও তাদের পুরনো জীবন ধারা পাল্টায় না।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ সাহিত্য, পন্ডিতজন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক চিন্তার প্রতিফলন ঘটেছে।
আবার মুসলমানদের মাঝে কুরআন-এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ, বক্তব্য এবং অন্যান্য আলোচ্য বিষয় নিয়ে তেমন দ্বি-মত নেই। কিন্তু সুন্নাহ, শরিয়াহ, ফিক্হা, ইজমা ও ইজতিহাদের মাধ্যমে অনুসৃত বিষয়গুলো নিয়ে ভিন্নমত পরিলক্ষিত হয়। কিছু কিছু আধুনিকতাবাদী মুসলমানরা মতামত দেন যে, আধুনিকতায় বিশ্বাসীরা মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করে থাকে। আর তারা জেনে না জেনে তাদের মতামতের প্রসার ঘটান।
ইসলাম ও আধুনিকতা একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা:
Bmjvg I AvaywbKZvi m¤úK©, wewfbœ ch©v‡q I wewfbœiƒ‡c Bmjvg I cvðv‡Z¨i ga¨Kvi AvšÍwK&ªqvi g‡a¨ kZvãx cÖvPxbKvj a‡i wbnxZ| AvaywbKZv Ges Gi mv‡_ m¤úwK©Z aviYv& I wek¦vm, m„wói mf¨Zvi Avw`Kvj Ges weMZ wZbkZ eQie¨vcx AvaywbKZvi weKvkKvj n‡Z Bmjv‡gi mv‡_ gZ‰ØZv cÖKvk K‡i Avm‡Q| Bmjvg wb‡RB AvaywbKZvq iƒc wb‡q e‡m‡Q, KviY Aóv`kI  Dbwesk kZvãx‡Z, L„óxq cÖK…wZi nIqvq gymwjg mf¨Zv GUv‡K eR©b K‡iwQj|ZLb †_‡KB AvaywbKZvi cÖ‡kœ Bmjvg, `xN©w`b a‡i AvaywbKZvi cÖ‡kœ P¨v‡j‡Äi †gvKv‡ejv K‡i Avm‡Q| cwðgv cwÐZ‡`i cÿ †_‡KB GB P¨v‡jÄ Av‡m, †mme cwЇZi AwaKvsk GL‡bv hyw³ cÖ`k©b K‡ib †h, Bmjvg AvRI cy‡ivcywi AvaywbKZv‡K aviY Ki‡Z cv‡iwb| Zuv‡`i g‡Z AvaywbKZvi KwZcq cÖeYZv i‡q‡Q, †h¸‡jv Bmjvg MÖnb K‡ibv|‡hgbt AvaywbK cÖwZôvbmg~n I A_©bxwZ, ag©wbi‡cÿZv Ges m‡e©vcwi, me‡P‡q ¸iæZ¡c~Y© n‡jv MYZš¿|GB †cÖwÿ‡Z Bmjvg I gymjgvb‡`i‡K AvaywbKZvi mv‡_ Am½wZc~Y© e‡j we‡ePbv Kiv nq|GLv‡b Bmjvg mwZ¨B AvaywbKZvi mv‡_ AgvbvbmB wKbv Zv ch©‡eÿY Kiv n‡q‡Q| cvðv‡Z¨ e¨vcKfv‡e g‡b Kiv nq †h, AvaywbKvq‡bi gva¨‡gB Bmjvg‡K GKgvÎ MÖnb‡hvM¨ K‡i †Zvjv †h‡Z cv‡i, hv Avm‡j RwUj I eûgywL cÖeYZv‡K aviY K‡i| ZvB AvaywbKZvev`x cwÛZMY e‡jb †h, Bmjvg GL‡bv Zvi AvengvbKv‡ji g‡a¨ NyicvK Lv‡”P, hv AvaywbK Rxeb hvcb c×wZ I hyw³‡K LÛb Kiv hv‡e GB K_v e‡j †h. Bmjvg I gymwjgiv Bmjvgm¤§Z bq, Ggb me wek¦vm I cÖ‡qvMmg~n‡K †g‡b wb‡q Aek¨B AvaywbKZv‡K MÖnb Ki‡ebv| hv‡nvK, cvðv‡Z¨i AvaywKZvevw`‡`i mv‡_ A‡bK wKQz Am½wZc~Y© nIqv m‡Z¡I, AvaywbKZvi mv‡_ Bmjv‡gi gvbvbmB m¤úK© M‡o IVv A‡hŠw³K bq| †mBmv‡_ Bmjvg, AvaywbKZvi †gŠwjK w`K¸‡jv‡K KZUv MÖnb Ki‡Z cvi‡e, Zv we‡kølY K‡i †`Lv cÖ‡qvRb| BwZnv‡mi w`‡K wd‡i _vKv‡j †`Lv hvq †h, Imgvwbqv kvmbvg‡j, Bmjvg; BD‡ivcxq mf¨Zvi ms¯ú‡k© Avmvi mv‡_ mv‡_, mvgwiK evwnbx‡Z AvaywK cÖhyw³,BD‡ivcxq AvBb-Kvbyb I wkíKjv‡K MÖnb K‡i wb‡qwQj| Aciw`‡K, BD‡ivcI Bmjvgx fveaviv‡K aviY K‡i wb‡qwQj| †mB mg‡q Bmjvgx mgvR¸‡jv‡Z I Jcwb‡ewkK kw³kvjx Ae¯’v‡bi ‡cÖwÿ‡Z,ms¯‹…wZ wel‡q A‡bK cÖwZeÜKZv I evav _vKv m‡Z¡I,cvðv‡Z¨i Avwa‡K¨i weiƒ‡× Bmjvgx †gŠjev‡`i mivmwi DÌvb N‡Uwb, eis Bmjv‡gi AvaywbKZv I Bmjv‡gi mgwš^Z iƒ‡ci my¯úô `„óvšÍ n‡jv,Zzi¯‹| G‡`kwU†Z cÖ_g AvaywbKvqb cÖwµqv Avi¤¢ n‡qwQj|AvaywbKvqb‡K MÖnb K‡i, Bmjvgx g~j¨‡eva I Abykxjb‡K m‡PZb ev Ae‡PZbfv‡e Zviv aviY K‡i †bq| Zzi‡¯‹i ci, gymwjg †`k¸‡jv †hgb Bivb, wgki, RW©vb,mshy³ Avie AvwgivZ wdjcvBb I Ab¨ A‡bK †`k, we‡klZ ga¨cÖv‡P¨,ivR‰bwZK e¨e¯’vq †gŠwjK cwieZ©b mvab K‡i AvaywbKvqb‡K MÖnb K‡i| Z_vwc A‡bK Bmjvgx †`k †hgb †mŠw` Avie,wmwiqv, mshy³ Avie AvwgivZ, RW©vb I eªæbvB GL‡bv ev`kvn,‡kL,myjZvb I GKbvqKiv kvmb KvR cwiPvjbv Ki‡Qb| gymwjg we‡k¦i AwKvsk †`k MYZš¿ cÖwZôvq e¨_©Zvi Kvi‡Y, AvaywbKZvev`xiv, AvaywbKZvi mv‡_ e¨vcKfv‡e wbexW m¤úK© ¯’vcb K‡i Pj‡jI Bmjvg‡K MYZvwš¿K e‡j MÖnb K‡ibbv| wKQz gymwjg †`‡k g~j¨‡ev‡ai NvUwZ Av‡Q e‡U, GUv Av‡`Š Bmjvgx wkÿv ev AmvgÄm¨Zvi Kvi‡Y bq| Gm‡e g~‡j wbnxZ i‡q‡Q; &&GŠwZnvwmK,ivR‰bwZK,A_©‰bwZK I mvs¯‹…wZK `~iZ¡,Bmjvg ag©MZ wek¦v‡mi Rb¨ bq| hw`I AvaywbK MYZvwš¿K gZev‡`i Rb¥ cvðv‡Z¨, †mLv‡bI 18k kZvãx ch©šÍ L„óvb PvP©¸‡jv AvaywbKZv I MYZ‡š¿i we‡ivwaZv Kivq mv`‡i eiY Kiv nqwb, ïay Dbwesk kZ‡KB cwðgv mgv‡R GUv MÖnb‡hvM¨ n‡q I‡V| cÿvšÍ‡i ivRZš¿ e¨e¯’v M‡p I‡VwQj, †mK‡j Av‡jg‡`i Øviv, hviv GB e¨e¯’v‡K †g‡b †bb, Bmjvgx wkÿvi Av‡jv‡K bq, ïay ˆbivR¨, wek„sLjv †_‡K iÿv cvIqvi Rb¨| GB my‡hv‡M, gymwjg †`k¸‡jv‡Z GKwU KZ…Z¡civqb ÿgZv KvVv‡gv M‡o I‡V, †hLv‡b Bmjv‡gi Abymvixiv g‡bvbq‡bi gva¨‡g ev`kvnx ev ivRZš¿ wVwK‡q †i‡L‡Q| mv¤ªR¨ev`x ¯^v_©‡Mvôxi †mev K‡i Zv‡`i ivRKxq kvmb c×wZ‡K AviI mymsnZ K‡i wb‡q‡Q,gymwjg ivRZ‡š¿i mg_©K‡`i g‡a¨ i‡q‡Q, cÖ_gZ BD‡ivc,Av‡gwiKv, hviv memgq Zv‡`i(ivRZ‡š¿i) `ybx©wZ I KZ©„Z¡ev`x kvmK‡`i mg_©b w`‡q Avm‡Q, we‡klZ gymwjg †`k¸‡jv‡K| d‡j †mme †`‡ki gvby‡li MYZš¿ I RbwcÖq miKv‡ii AvLvsKv‡K, KZ…Z¡civqb kvmK‡`i wbôzi nv‡Z `gb Kiv n‡q‡Q,hviv Bmjvg‡K MYZš¿ MÖn‡bi AbygwZ w`‡q‡Q| Dc‡iv³ we‡kølY QvovI, cweÎ KziAvb gwR‡`i evYx ch©‡eÿY Ki‡jI, †`Lv hvq, †Kvb GKbvqKZš¿ ev KZ…Z¡evw`Zv‡K wbiæZmvwnZ Kiv n‡q‡Q| cweÎ KziAv‡bi gg©vbymv‡i g~jZ kw³ cÖ‡qv‡Mi gva¨‡g †Kvb kvmb ÿgZv MÖnb ev AR©b‡K Aby‡gv`b K‡ibv|AvaywbK MYZ‡š¿i †PZbv I KziAv‡bi wb‡`©kbv, Òcivgk© K‡i KvR Ki (ïiv) K_vwU cy‡ivcywi mgv_©K| mgmvgwqK we‡k¦, ïiv (civgk© mfv) -‡K MYZvwš¿K cÖwµqv I MYZvwš¿K cÖwZôbmg~‡ni MVb cÖwµqvi mv‡_ Zzjbxq, hv‡Z wbe©vvPb Acwinvh©| GKBfv‡e ÔwRnv`Õ cÖcÂUv (Bmjv‡gi Rb¨ eo ai‡Yi hy× ev cÖ‡Póv ) AvaywbKvqb I gymwjg mgv‡Ri ms¯‹v‡ii Rb¨ cÖ‡hvR¨ n‡Z cv‡i| GLv‡b ¯§iY Kiv †h‡Z cv‡i †h, wR¡nv‡`i bxwZ; gymwjg mgv‡R ms¯‹vig~jK Kvh©µ‡gi m~Pbv NwU‡qwQj Ges Jcwb‡ewkK kvm‡bi weiæ‡× gyw³i msMÖv‡gi cÖavb gva¨g wn‡m‡e cÖ‡qvM Kiv n‡qwQj| djkÖæªwZ‡Z KwgDwb÷ Av`k©ev‡`i b¨vq Bmjvgx gZev`I Av‡›`vj‡bi iƒc aviY K‡i, hv GKwU AvaywbK cÖeYZv| Avi `yf©vM¨µ‡g, mgmvgwqK mwnsmZv †gvKv‡ejvq wRnv‡`i Av`‡j Bmjvgx Av‡›`vj‡bi m~Pbv N‡U| AvaywbKZvi cÖwZ Bmjv‡gi wbwe©‡iva Ae¯’vb; AviI K‡qKwU †cÖwÿZ‡K we‡ePbvq wb‡q Mfxifv‡e we‡kølY Kiv †h‡Z cv‡i| †hgb- AvaywbK e¨vswKs I gy`ªvbxwZi cÖPjb, Bmjvgx ms¯’v ev msMVb M‡o †Zvjv cÖf…wZ| Bmjvgx m‡¤§jb ms¯’v(I AvB wm), Aviejx‡Mi g‡Zv ms¯’vi K_v D‡jøL Kiv †h‡Z cv‡i| cwi‡k‡l ejv hvq, Bmjvg I AvaywbKZvi Zzjbvg~jK AbymÜvb Kiv n‡j g~j g~j wel‡q Lye GKUv cv_©K¨ Lyu‡R cvIhv hvqbv| Z‡e AvaywbKZv, AZ¨vaywbKZv, Dk„sLjZv,bxwZMwn©Z wKQz AvPvi-AvPiY, ixwZbxwZ,I ms¯‹……wZi KwZcq PP©vMZ welq Av‡Q †h¸‡jv; Bmjvgx wkÿv,Abykxjb I wek¦v‡mi m¤ú~Y© cwicš’x| AZGe, †QvULvU cv_©K¨¸‡jv ¸iæZ¡ bv w`‡q, b¨vqwePvi, ïÔiv, gvbevwaKvi, bvix AwaKvi, cÖwôvb, A_©e¨e¯’vcbv, AvBb mfv, wbe©vnx wefvM, wePvi wefvMmn MYZš¿ I AvaywbKZvi Rb¨ ¸iæZ¡c~Y© weavq cvðvZ¨ I Bmjv‡gi mnve¯’vb I ci¯ú‡ii cwicyiK Kj¨vbg~jK wek¦e¨e¯’v m¤¢e|